বিপাকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

নথিপত্রহীন ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আর অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। আমেরিকায় ড্রাইভিং লাইসেন্সকে কোন একজন ব্যক্তিকে শনাক্তকরণের জন্য একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে মনে করা হতো। সম্প্রতি নিউইয়র্কসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্য নথিপত্রহীনদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া শুরু করলে কেন্দ্রীয় সরকার বিপাকে পড়ে।
অঙ্গরাজ্য সরকারগুলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগসহ ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে সরবরাহ করছে না। ফলে আমেরিকায় বৈধ ইমিগ্রেশন নেই, এমন লোকজনকে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখভাল করবে—এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চ্যাড উলফ ১ জানুয়ারি ইমিগ্রেশন, সীমান্ত সংরক্ষণ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আদম পাচার, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তথ্য না পাওয়ার সমস্যার কথা জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্ক নগর ও অঙ্গরাজ্য সরকার গত মাস থেকে কাগজপত্রহীন ইমিগ্রান্টদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া শুরু করেছে। আমেরিকার এমন ১৩টি অঙ্গরাজ্যে এমন লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে। নিউজার্সিতেও নথিপত্রহীনদের লাইসেন্স দেওয়ার আইন পাস করা হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্য তাদের মোটরযান বিভাগ থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে কোন তথ্য শেয়ার করছে না বা আংশিক শেয়ার করছে। ফলে দীর্ঘদিন থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগসহ ইমিগ্রেশন বিভাগ যেসব তথ্য সূত্র ধরে তদন্ত বা শনাক্তের কাজ করে আসছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও নিউইয়র্ক নগরের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও—দুজনই ডেমোক্র্যাট। তাঁরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির ঘোরবিরোধী। কেবল নিউইয়র্কেই পাঁচ লাখের বেশি কাগজপত্রহীন অভিবাসীর বসবাস বলে ধারনা করা হয়, যাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রক্ষণশীলরা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
নিউইয়র্কের বর্তমান আইন অনুযায়ী, বিচারকের আদেশ ছাড়া অঙ্গরাজ্য সরকার কোন ফেডারেল এজেন্সিকে কারও কোন তথ্য দিতে পারবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চ্যাড উলফ বলেন, ‘নতুন এই সমস্যা মোকাবিলা করতে আমাদের উপায় খুঁজতে হবে। দেশের নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন আইনের প্রয়োগ, আদম পাচার, মাদক চোরাচালানের জন্য অঙ্গরাজ্য সরকারের কাছ থেকে লোকজনকে শনাক্ত করার তথ্য খুবই জরুরি।’
ফিসক্যাল পলিসি ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য মতে, আগামী তিন বছরে প্রায় তিন লাখ কাগজপত্রহীন ইমিগ্রান্ট কেবল নিউইয়র্কেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পারে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র হেইদার সুইফট বলেন, খুবই নিয়ন্ত্রিত চিন্তা থেকে অঙ্গরাজ্যের এসব আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব আইনের ফলে জঙ্গি ও অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাবে। তারা নানা রকম শনাক্তকরণ নথিপত্র সংগ্রহ করে নেবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নিউইয়র্কসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্য সরকার বলছে, লোকজনকে কাজ ও চলাচলের সুযোগ দিতেই এই আইন করা হয়েছে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে। দুর্ঘটনা কমবে।

এ কোন ট্রাম্পকার্ড ট্রাম্পের?

ইরানি জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের জুয়াই খেলে ফেললেন। অন্তত রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তা-ই মনে করছেন।

দেড় বছর ধরে ইরানের সঙ্গে অলিখিত লড়াই চালিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এ লড়াইয়ে তিনি শেষ দেখতে পাচ্ছিলেন না। এমনকি জেতার কোনো উপায়ও তাঁর কাছে ছিল না। শেষমেশ তিনি শুরু করে দিলেন লড়াই। তিনি আঘাত হানলেন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেলের ওপর। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সোলায়মানিকে হত্যা করা হয়। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

সোলাইমানিকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের কী লাভ হলো?

মার্কিন সংবাদ সংস্থা ‘পলিটিকো’ তাদের এক বিশ্লেষণে লিখেছে, ইরানের শীর্ষ সেনা কমান্ডারকে হত্যার মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করা হলো। একই সঙ্গে সৃষ্টি করা হলো মারাত্মক শত্রুতার একটি ক্ষেত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিত্রদের ওপর বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশের অঞ্চল এখন হয়ে উঠতে পারে রণক্ষেত্র। পাল্টা হামলা ও প্রতিশোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে কাশেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার জন্য মার্কিন হেলিকপ্টার হামলাকে দায়ী করেছে ইরান। তারা বলেছে, ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিসও নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনকে রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। কেউ কেউ বলছেন, এ হামলায় মার্কিন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।

পেন্টাগন বলেছে, জেনারেল সোলাইমানি মার্কিন কূটনীতিক ও সদস্যদের ইরাকসহ ওই অঞ্চলে আক্রমণের জন্য সক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা তৈরি করছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাগদাদে মার্কিন সেনা এবং বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী। ইরানের ভবিষ্যৎ আক্রমণ পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

ইরাকের মাটিতে সরাসরি সোলাইমানিকে লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী নাড়া দিয়েছে। এর প্রভাব বিবেচনা করে তরতর করে বেড়ে গেছে তেলের দাম। মার্কিনরা দীর্ঘদিন ধরে সোলাইমানিকে সন্ত্রাসী মানসিকতার লোক বলে চিহ্নিত করে আসছে।

কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা, পাশাপাশি প্রবীণ ইরান-বিষয়ক পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, হত্যাকাণ্ড তাঁদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত পদক্ষেপ ছিল।

সোলাইমানি সম্পর্কে ধারণা রাখেন এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সম্পর্কে বই ‘ভ্যানগার্ড অব দ্য ইমাম’ বইয়ের লেখক আফসোন অসতোভার বলেন, ইরান এর প্রতিশোধ অবশ্যই নেবে। কোনো মতেই এর ছাড় দেবে না তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। আমার কাছে এখনকার উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ। এটাই কি একটি আঞ্চলিক সংঘাতের শুরু? আমাদের এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

আরেক সামরিক কর্মকর্তার মতে, ইরান এখন যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় তাদের গোপন কার্যক্রম শুরু করে দেবে। আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, গালফ—যেকোনো জায়গায় আক্রমণ হতে পারে।

সিআইএ ও মোশাদের হিটলিস্টে সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাচ্ছিলেন জেনারেল কাশেম সোলাইমানি। নিজ দেশে ভক্তদের কাছে যাঁর পরিচিতি হাজি কাশেম নামে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো সমরজগতের বিশেষ মনোযোগে ছিলেন তিনি। ইরানে দারুণ জনপ্রিয় জেনারেলের হত্যার বদলা ইরান কীভাবে নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কর্মসূচি নিতে দেখা যায় ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে। ট্রাম্প একে বলছিলেন ‘সর্বোচ্চ চাপ’। এ চাপ দিতে গিয়ে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াচ্ছিলেন বারবার। কিছুদিন আগেও মার্কিন এক ঠিকাদার ইরাকে নিহত হন। এর পেছনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণের জন্যও মিলিশিয়াদের দায়ী করা হয়।

সোলাইমানিকে হত্যার মধ্য দিয়ে পুরো ঘটনা এখন অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকিদাতা ট্রাম্পের জন্য এখন যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বছরের শুরুতেই তেলবাহী জাহাজে আক্রমণের ঘটনা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছিল। ট্রাম্প তখন ইরানে সরাসরি আক্রমণের সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করেন। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা পাঠালেও বারবার বলছেন, তিনি যুদ্ধে জড়াতে চান না। তবে ইরান এখন তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার জবাব দিতে বাধ্য হবে। যার প্রভাব এ বছরের মাঝামাঝি মার্কিন নির্বাচনেও পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দল সোলাইমানিকে হত্যার বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। তবে রিপাবলিকানরা একে বিজয় হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট টুইটারে মার্কিন পতাকা প্রদর্শন করে সে ঘোষণাই দিচ্ছেন।

সিনেটর ক্রিস মারফি প্রশ্ন তুলেছেন, সোলাইমানি মার্কিন শত্রু ছিলেন, এতে সন্দেহ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র কি শুধুই গুপ্তহত্যাকারী? কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে খুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধ বাধানোর ঝুঁকি কি তৈরি হলো না? সোলাইমানিকে হত্যার বিরূপ প্রভাব ইরাক ও এর আশপাশের দেশে পড়বে। এসব দেশে ইরানের বন্ধু রয়েছে।

ইরানকে চাপের মুখে রাখায় ইসরায়েলের প্রশংসা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাতও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে আছে। সোলাইমানির হত্যায় তাদের কিছুটা মায়াকান্না দেখানো স্বাভাবিক হলেও ইরানের ক্ষোভ তাদের ঠেকানোর প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ট্রাম্প সরকার ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে। এ ছাড়া জাতিসংঘকে দিয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে ঘোষণা দেওয়ানো হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা চলছিল। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বললে ট্রাম্পের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর মিত্রদের বাইরে পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে গেলেই এখন ট্রাম্পের চক্ষুশূলে পরিণত হতে হচ্ছে। কথায় বলে—ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়।

‘অল ইজ ওয়েল’— হামলার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প

ইরাকে মার্কিন দুই বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ঘটনায় টুইটে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘সব ঠিক আছে! এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, ভালো হয়েছে!’

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার ব্যাপারে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলা হলেও পরে হোয়াইট হাউস জানায়, এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ক্যামেরার সামনে আসবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুসারে এখন সেখানে মঙ্গলবার গভীর রাত।

তবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ না দিলেও টুইটে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। হামলার ঘটনার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া। আজ বুধবার সকালে বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, টু্ইটে ট্রাম্প বলেছেন, ‘সব ঠিক আছে! ইরাকে অবস্থিত দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে এখন। এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, ভালো হয়েছে! এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী রয়েছে আমাদের! কাল সকালে আমি বিবৃতি দেব।’

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ইরাকের যে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে, সে দুটি হলো আল-আসাদ ও ইরবিল। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইরাকের ওই দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে ইরান।

গত শুক্রবার ভোরে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাশেম সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় ইরান চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান হামলা চালালে দেশটির ৫২টি স্থাপনায় খুব দ্রুত ও শক্তিশালী হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সেনারা প্রস্তুত।

সিএনএন জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এ মুহূর্তে (যুক্তরাষ্ট্র সময় মঙ্গলবার রাত) নতুন কোনো বিবৃতি দেবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হামলার ব্যাপারে এখন কোনো বক্তব্য দেবেন না। এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে পরামর্শও করছেন প্রেসিডেন্ট।’ ওই সময় হামলার ব্যাপারে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে শুরুতে জানানো হয়। তবে এখন বলা হচ্ছে, ‘আজ রাতে (স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত) আর ক্যামেরার সামনে আসবেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।’ এদিকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপের সহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউস ছেড়ে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বেসামরিক মার্কিন বিমানগুলোকে ইরাক, ইরান, পারস্য ও ওমান উপসাগরের ওপর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।